Digital Marketing কি ? Digital Marketing এর জন্য সেরা ৮ টি মাধ্যম


                                                                      



                                                                                 

Digital Marketing কি ? Digital Marketing এর জন্য সেরা ৮ টি মাধ্যম


বর্তমান সময়কে বলা হয় আধুনিক যুগ। ঘরে বসে মানুষ সারা পৃথিবীর সব খোজ খবর রাখতে পারে। ধরায় যায় পৃথিবীর এখন মানুষের হাতের নাগালে। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে অল্প সময়ে ব্যবসায় সফল হতে চান তাহলে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে Digital Marketing বা ডিজিটাল মার্কেটিং কি?


সংক্ষেপে যদি আমি বলতে যায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর সজ্ঞা তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ব্যবহার করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় পণ্য, প্রতিষ্ঠান, ব্রেন্ডের প্রচারণ বা বিজ্ঞাপন দেওয়াকে বোঝায়।


বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হার অনেক বেশি। এর মূল কারণ হলো বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ নিয়োমিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলো ডিজিটাল Marketing কে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পথ আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের এমন ৮টি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যম সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করবো। যা ব্যবসার ক্ষেত্রে এনে দিতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন। তাহলে এক নজরে জেনে নিন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ৮টি মাধ্যম সম্পর্কে।


ডিজিটাল Marketing এর ৮টি মাধ্যম
(Digital Marketing)

১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) বা SEO
২. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (এসইএম)
৩. কন্টেন্ট মার্কেটিং বা Content Marketing
৪. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মার্কেটিং
৫. মোবাইল মার্কেটিং বা Mobile Marketing
৬. ই- মেইল মার্কেটিং বা E-Mail Marketing
৭. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা Affiliating Marketing
৮. ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং বা Digital Display Marketing
উপরের এই কয়েকটি মাধ্যমে আপনি Digital মার্কেটিং করতে পারবেন খুব সহজেই। এই ৮টি মাধ্যম ছাড়াও আরো বেশ কিছু মাধ্যম রয়েছে। তবে এগুলোই আমার কাছে সবথেকে বেস্ট মাধ্যম মনে হয়েছে

 

নিচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
(Digital Marketing)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এমন একটি প্রক্রিয়া যারা মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটের কি ওয়ার্ড সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানো হয়। এর উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে এসইও কী? এটি লিখে সার্চ দিয়েছেন। সার্চ দেওয়ার পর গুগল আপনকে কিছু সার্চ রেজাল্ট দিবে। এখন বলুন আপনি কোন সার্চ রেজাল্টটি ক্লিক করবেন ?

আমি নিশ্চিত ভাবে আপনাকে বলতে পারি যে নিশ্চই আপনি সবার উপরে থাকা সার্চ রেজাল্টে ক্লিক করবেন। অর্থাৎ গুগলের টপ পজিশনে থাকার কারণে আপনি প্রথম রেজাল্টে ক্লিক করবেন। আর গুগল সহ প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কি ওয়ার্ড টপ পজিশনে রেংক করানোর প্রক্রিয়াকেই বলা হয় এসইও।

কোনো ওয়েব সাইটে যদি এসইও করা হয় তাহলে সেই সাইটটি গুগলে র‌্যাং করে। এসইও সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
(ক) White hat SEO
(খ) Gray hat SEI
(গ) black hat SEO


সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (এসইএম)
(Digital Marketing)

Digital Marketing বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম মাধ্যম হলো এটি। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং একটি ব্যপক মার্কেটিং কৌশল যা প্রাথমিকভাবে আপনার ব্যবসায় ট্রাফিক ড্রাইভ করবে। আমরা যেটাকে পেইড সার্চ মার্কেটিং বলে থাকি।

এ ধরনের মার্কেটিং সাধারণত আপনার ব্যবসায়ের গঠনশৈলীর উপর ভিত্তি করে করা হয়। এক্ষেত্রে পে-পার- ক্লিক অথবা ক্লিক পার ক্লিক ইত্যাদি মডেল মডেল নির্বাচন করা হয়। এসইএম বিভিন্ন প্লাটফর্মে হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুগল অ্যাড, বিং বিজ্ঞপ্তি, ইয়াহু বিং নেটওয়ার্ক বিজ্ঞপ্তি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।


কন্টেন্ট মার্কেটিং বা Content Marketing

যেকোনো বিষয় ও বস্তু সম্পর্কে একটি সাজানো কন্টেন্ট তার মান বাড়াতে সাহায্য করে। অনলাইনে আপনার কন্টেন্ট, যে কোনো পোস্ট, কিংবা ফোরাম অথবা পণ্য ডিসকাশনে যাতে আপনার টার্গেট কি ওয়ার্ডের উপস্থিতি থাকে যাতে খুব সহজেই আপনার টার্গেটেড পাঠক বা ক্রেতা আপনার পণ্যকে খুজে পেতে পারে।


এজন্য সবসময় মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট গুলোকে আপডেট করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কন্টেন্ট পোস্ট করার ক্ষেত্রে অটোমেটিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত। যেমনঃ ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য বিষয়বস্তু এবং সংক্ষিপ্ত হতে হবে। মনে রাখতে হবে একটি কার্যক্রম কৌশল আপনার ক্রেতা তৈরি করবে। এজন্য Digital মার্কেটিং এ ভালো কন্টেন্ট এর প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে Marketing

বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৭৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাথে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মার্কেটিং বলতে আমরা বুঝে থাকি ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, লিঙ্কডিন, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মার্কেটিং করাকে বুঝি। তবে সামাজিক যোগযোগের মাধ্যম গুলোর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক এবং ইউটিউব।

পুরো পৃথিবীতে অনেক গুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে এর মধ্যে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম জনপ্রিয়। যেমনঃ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্থানে ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াট অ্যাপ, ইমো, ফেসবুক ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। এমন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম জনপ্রিয়। মূলত উপরের এই সমস্ত মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে মার্কেটিং বা Marketing করাকে বলা হয় সামাজিক যোগাযোগ মার্কেটিং।


মোবাইল মার্কেটিং বা Mobile Marketing

পৃথিবীতে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৯২ কোটি। এর মধ্যে ৫০% অর্থাৎ ২৪৬ কোটি সংযোগ ব্যবহৃত হচ্ছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে।
বর্তমানে এটি দিন দিন বেড়েয় চলেছে। মোবাইল ব্যবাহর করে আরো বেশি সফলভাবে আপনার যেকোনো পণ্যের প্রচার ও বিক্রয় করতে পারেন দ্রুত সময়ে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিশাল কেন্দ্র মোবাইল মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে হচ্ছে।
মোবাইল মার্কেটিং বা Mobile Marketing এর বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি ক্ষেত্র হলো এসএমএস মার্কেটিং এবং এমএমএস Marketing. এসএমএস এবং এমএমএস এর মাধ্যমে আপনি Digital মার্কেটিং করতে পারবেন খুব সহজেই।


 ই- মেইল মার্কেটিং বা E-Mail Marketing
(Digital Marketing)

ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো পণ্য মার্কেটিং বা Marketing করা হলেও এর ক্ষেত্র কিন্তু অনেক বড়। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে একটি সাজানো আর্টিকেল ও কন্টেন্ট এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পণ্যের গুণাগুণ তুলে ধরে এবং ক্রেতাদের ওই পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী করে তোলে। ই- মেইল মার্কেটিং সাধারণত তিনটি ধাপে হয়ে থাকে-
(ক) Email Template
(খ) Email Collection
(গ) Email Delivery
প্রপার ই- মেইল মার্কেটিং বা Marketing হতে পারে কম খরচে ব্যপক Digital Marketing বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা Affiliating Marketing

অন্যের প্রডাক্ট মার্কেটিং বা Marketing করাকে সাধারণত বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা Affiliating Marketing । অন্যের পণ্য বিক্রি করে যে কমিশন পাওয়া যায় মূলত সেই কমিশনকে বলা হয় অ্যাফিলিয়েট কমিশন।

যেমন আমার দোকানের মালামাল আপনি প্রচার প্রচারণা করে বিক্রি করলেন এবং তার মিনিময়ে আমি আপনাকে কিছু কমিশন দিলাম। সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার কম্পানি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা Affiliating Marketing এর মাধ্যমে তাদের পণ্যে খুব দ্রুত গ্রাহকদের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা Affiliating Marketing বিভিন্ন ভাবে করা যায়। যেমনঃ ফেসবুক এর মাধ্যমে, ইউটিউবের মাধ্যমে, ব্লগিং এর মাধ্যম ছাড়াও আরো অসখ্য মাধ্যম রয়েছে যেগুলো দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়।

 

ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং বা Marketing (Digital Marketing)

ডিজিটাল ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন তুলনামূলক কিছুটা ব্যায়বহুল। ওয়েবসািইট অথবা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ব্যানার, স্নাইড শো, ছবি অথবা ভিডিও আকারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাকে ডিজিটাল ডিসপ্লে Marketing বলা হয়।

এসব বিজ্ঞাপন দিতে বেশি টাকা ব্যায় হলেও এগুলোর মাধ্যমে গ্রহক বেশি পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বর্তমানে LED ডিসপ্লের মাধ্যমেও অনেকেই Digital মার্কেটিং করছে। আধুনিক এই যুগে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং হতে পরে সেরা মাধ্যম।


আমাদের শেষ কথা (
Digital Marketing)

তো বন্ধুরা এই হলো আমাদের আজকের আর্টিকেল। আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং Digital Marketing বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কয়েকটি মাধ্যম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। উপরের এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর যেকোনো মাধ্যম থেকে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর বেশিরভাগ কাজ গুলোই হয় অনলাইন ভিত্তিক।

আপনার মূল্যবান সময় ব্যায় করে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। নিয়োমিত যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল পেতে চান তাহলে আমাদের এই ওয়েব সাইটের সাথেই সবসময় থাকবেন। ধন্যবাদ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন